কেরানীগঞ্জে আরও তিনজন করোনায় আক্রান্ত, ৩০ বাড়ি লকডাউন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি


কেরানীগঞ্জে সোমবার আরও তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। তাদের আশপাশের ৩০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

এরমধ্যে দু’জনের বাড়ি জিনজিরা ইউনিয়নে অপরজনের বাড়ি চুনকুটিয়া এলাকায়।

এ নিয়ে কেরানীগঞ্জে চারজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুরে প্রথমবারের মতো জিনজিরা ইউনিয়নের মডেল টাউন এলাকায় করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ জনে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মোবারক হোসেন জানান, সোমবার দুপুরে ২ জন ও বিকালে ১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর তাদের জানানো হয়। এদের মধ্যে জিনজিরা ইউনিয়নের গোলজারবাগ এলাকায় ৬৫ বছর বয়স্ক ১ জন ও জিনজিরা বয়েজ স্কুলের পাশে ১ জনের আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

তিনি জানান, অপরজনের বাড়ি চুনকুটিয়া হিজলতলা এলাকায়। বয়স ৫০ বছর। তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার পরীক্ষা করলে পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

মীর মোবারক হোসেন জানান, জিনজিরায় আক্রান্ত দু’জনের নমুনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছিল ঢাকা শিশু হাসপাতালে। পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আইইডিসিআর থেকে তাদের এ বিষয়ে জানানোর পর জিনজিরার ২ ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ দিকে সোমবার আক্রান্ত ৩ ব্যক্তির বাড়িসহ তাদের আশপাশের ৩০টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আক্রান্তদের বাড়ির আশপাশের সড়কগুলোতে চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল জানান, আইইডিসিআর থেকে খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা শনাক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত নামাজ পড়েছেন, এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। এ সময়ে তারা কতজনের সঙ্গে মিশেছেন তার সঠিক সংখ্যা জানা নেই। যে কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িসহ আশপাশের ৩০টি বাড়ি ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যতদূর জানা গেছে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিদেশ ফেরত কারো সঙ্গে মিশেননি। তারপরও তারা কারো না কারো মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা করোনাভাইরাস কেরানীগঞ্জে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন করেছে।

তিনি জানান, প্রথমদিন কদমতলী মডেল টাউন এলাকায় একজন আক্রান্তকে পাওয়া যায়। পরদিন গোলজারবাগ ও বয়েজ স্কুলের পাশে এবং চুনকুটিয়া হিজলতলা এলাকায় তিনজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে কেরানীগঞ্জে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ জন্য এখানকার বাসিন্দাদের আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *