ঐতিহ্য রক্ষায় শিল্পীদের ইনসেনটিভ প্রদানের আহবান স্পিকারের

স্বাস্থ্য


দেশীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে ইনসেনটিভ দিয়ে এসব পণ্যের কারিগরদের উৎসাহিত করার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে একটি বাড়িতে ক্ষুদ্র শিল্প ও নতুন উদ্যোক্তাদের প্লাটফর্ম ‘বাহারি’ আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনে অনুষ্ঠানে এই আহবান জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার।

স্পিকার বলেন, আমাদের দেশের জামদানি প্রস্ততকারীরা বয়সের কারণে এই পেশা থেকে সরে যাচ্ছে, লাভ বেশি না হওয়ায় তাদের বংশধরেরাও এই পেশায় আসছে না। এভাবে চললে একসময় দেখা যাবে জামদানি মসলিনের মত বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আমাদের উচিৎ তাদের ছেলেমেয়েদের ইনসেন্টিভ দিয়ে এই শিল্পে ফিরিয়ে আনা। তাহলে আমাদের ঐতিহ্য টিকে যাবে। সবাই মিলে আমাদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। আমার বিশ্বাস আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ব্যাপারে অবশ্যই সহায়তা করবেন।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে আমাদের অর্থনীতিতে নারীদের বড় অংশগ্রহণ রয়েছে।

পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রচারের ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করে স্পিকার বলেন, ক্রেতাদের বুঝানো উচিৎ কম মূল্যের ভেজাল জিনিস খেয়ে স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেললে এর জন্য চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হবে। এর চেয়ে কিছুটা বেশি দিয়ে খাঁটি জিনিস খাওয়া ভাল।

প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে তিনি বলেন, মানুষ আনন্দিত হয়ে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করছে। কিন্তু এগুলো পরিবেশের ক্ষতি করছে।

অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, যাদের ক্ষমতা আছে তাদের উচিৎ পরিবেশ বান্ধব পন্য কিছুটা বেশি দামে হলেও কেনা। কারণ পরিবেশ বান্ধব পণ্য উৎপাদনে উৎপাদন খরচ বেশি। এতে উদ্যোক্তা উৎসাহিত হবে। আমাদের পরিবেশ রক্ষা পাবে।

উদ্যোক্তা সাফিয়া শামা বলেন, আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ শুরু করছি। আজকের প্রদর্শনীতে ১৭ টি ব্রান্ড যারা নিজেরা পণ্য উৎপাদন করে, তাদেরকে যুক্ত করা হয়েছে। এই ব্র‍্যান্ডগুলোর সম্মিলিত প্লাটফর্মে বাহারি। আমরা বাহারিকে আরো বড় পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাফিয়া শামা, তাসলিমা মিজি ও ফারহিন খান। উদ্বোধন শেষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এআর/এমএস